স্যার হুমায়ুন আহমেদ (১৯৪৮-২০১২ইং)

হুমায়ুন আহমেদ (১৯৪৮-২০১২ইং)

স্যার হুমায়ূন আহমেদ।
মোঃ শাহীন আক্তার। Md Shahin Akter

হুমায়ূন আহমেদ স্যারের নিয়ে আমি অতি সাধারণ মানুষ কি বা বেশি লিখতে পারি….
তার জন্ম দিনে কিছু না লিখলে যে নয় তাই আমার অতি ক্ষুদ্র একটু প্রচেষ্টা….

তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৩ই নভেম্বর, ১৯৪৮সালে।নেত্রকোনা জেলা তার পিতৃ নিবাস। তিনি গীতিকার, চিত্রনাট্যকার,পরিচালক, শিক্ষক, উপন্যাসিক।অনেক সৃজনশীল কাজ আমাদের মাঝে উপহার দিয়েছেন।

তার কিছু বিখ্যাত উক্তি আছে…
যেমন—

১) “যে জিনিস চোখের সামনে থাকে তাকে আমরা ভুলে যাই

যে ভালবাসা সব সময় আমাদের ঘিরে রাখে

তার কথা আমাদের মনে থাকে না….

মনে থাকে হঠাৎ আসা ভালবাসার কথা।”

—–হুমায়ূন আহমেদ

২)” কল্পনা শক্তি আছে বলেই

সে মিথ্যা বলতে পারে ।

যে মানুষ মিথ্যা বলতে পারে না,

সে সৃষ্টিশীল মানুষ না, রোবট টাইপ মানুষ ।”

—–হুমায়ূন আহমেদ

৩)‘‘পৃথিবীর সব মেয়েদের ভেতর অলৌকিক

একটা ক্ষমতা থাকে।

কোন পুরুষ তার

প্রেমে পড়লে মেয়ে সঙ্গে সঙ্গে তা বুঝতে পারে।

এই ক্ষমতা পুরুষদের নেই। তাদের কানের কাছে মুখ

নিয়ে কোন মেয়ে যদি বলে- ‘শোন আমার প্রচণ্ড কষ্ট

হচ্ছে। আমি মরে যাচ্ছি।’

তারপরেও পুরুষ মানুষ বোঝে না।

সে ভাবে মেয়েটা বোধ হয় এপেন্ডিসাইটিসের

ব্যাথায় মরে যাচ্ছে!’’

—–হুমায়ূন আহমেদ

অনেক মজা করতেন লোকের সাথে।ছেলে মেয়েদের সাথেও করতেন।
তার একটা ঘটনা বলি।তিনি ঈদে সবাইকে সেলামী দিতেন বয়স জেনে।মানে যার যত বয়স হবে তার তত টাকা। মনে করুন আপনার বয়স দুই বছর আপনি পাবেন দুই টাকা,আর একজনের বয়স ২০বছর সে পাবে ২০টাকা।এমনি সব মজার ঘটনা তিনি নিজেই তৈরি করতেন।

তিনি নিজ হাতে অনেক মানুষকে বিখ্যাত বানিয়েছেন,,তেমনি একজন কুদ্দুস বয়াতি,মাহফুজ আহমেদ,ফারুক,ডাঃএজাজ ইত্যাদি।
অনেক মানুষের বিবাহ দিয়েছেন নিজ হাতে তেমনি দুইজন মানুষ হচ্ছে অভিনয় শিল্পী মাহফুজ আহমেদ এবং জাহিদ হাসান।

আর একটি মজার ঘটনা আমি শেয়ার করবো সেটা হচ্ছে ঃ-
একদিন স্যার স্বদলবলে (নাটকের ইউনিট) নিয়ে গেলেন কলকাতায় ঘুরতে।সাথে ছিলেন অভিনয় শিল্পী জাহিদ হাসান। স্যার তখন প্রথম বউ কে তালাক দিয়ে দ্বিতীয় বউ এর সাথে থাকেন। মানে শাওনের সাথে।শাওনকে স্যার #কুসুম বলে ডাকেন।কুসুম নাম হওয়ার পিছনে একটা কারণ আছে।তা হলো..(শ্রাবণ মেঘের দিন)…… নাটকের কুসুম চরিত্রের মধ্যে ঢুকে গিয়ে শাওন নাম থেকে কুসুম নামে তখন স্যারের কাছে পরিচিতি লাভ করে।
সেই থেকে তাকে কুসুম বলে ডাকে।তো একদিন কলকাতায় মার্কেটে যাবে তার আগে জাহিদ হাসান কে ডেকে বললো,”জাহিদ আমি তো একটা শাড়ী কিনবো কুসুমের জন্য! তা এতো লোকের মধ্যে কিভাবে নিবো? আমার তো লজ্জা করছে!
তবে শুনো তুমি আগে তোমার বউ এর জন্য শাড়ী পছন্দ করবে।তারপর কুসুমের জন্য শাড়ী পছন্দ করবে।আমি তোমার পাশে থাকবো।যখন আমার পছন্দ হবে তখন গলা দিয়ে শব্দ করবো(কাশি দিবো)। তুমি বুঝে নিবে ওটা পছন্দ হয়েছে।”

স্যার জীবনের রাসায়নিক ভালো বুঝতেন। তাই তার সাংকেতিক ইশারা দিয়ে কাজ করতেন।

জাহিদ হাসান তার বউ এর জন্য শাড়ী পছন্দ করে ফেলেছে।এবার করবে স্যারের বউ মানে শাওনের জন্য। সে দশ বারোটা শাড়ি একটার পর একটা দেখতেছে এমন সময় স্যার কাশি দিলো।ওমনি দোকানদার কে ওই শাড়ীটা প্যাকেট করে দিতে বললো।সবাই চলে আসলো হোটেল রুমে।স্যারের রুমে জাহিদ হাসান কে ডাকলো।স্যার তখন বিড়ি ধরিয়ে টানছে।জাহিদ হাসান পিছন দিয়ে গিয়ে স্যার কে জিজ্ঞেস করলো,”স্যার আমাকে ডেকেছেন?”
স্যার তখন বলছে,”জাহিদ তুমি এইটা কি করলা?আমি তো সত্যি সত্যি কাশি দিয়ে ফেলেছি। আর তুমি ওই শাড়ীটাই পছন্দ করে ফেললে?”

জাহিদ হাসান তখন অবাক এবং একটা কিংকর্তব্যবিমূঢ়। স্যার তার এই কান্ড দেখে খুব খুশি হতেন। তাই তিনি বিশেষ কিছু মানুষদের সাথে এমন রশিকতা করতেন।
কয়েকদিন পরে জাহিদ হাসান কে ডেকে বললো,”জাহিদ ওটা আমারই পছন্দের শাড়ী, তুমি চিন্তা করো না।আমি তোমার টেনশনে ফেলার জন্য এই কান্ড করেছিলাম। ”

স্যারের একটা বড় মাপের জমি আছে গাজীপুরে যেটা নুহাশপল্লী নামে পরিচিত সবার কাছ।আনুমানিক ৩০০বিঘা জমি হবে।এই জমিতে স্যারের অনেক পছন্দের গাছ আর বাড়ি ঘর,পুকুর তৈরি করা। তার সমাধি করা আছে এই নুহাশ পল্লীতে।

নুহাশ পল্লীতে স্যার অনেক নাটক,সিনেমা তৈরি করেছেন।অনেক অভিনয় শিল্পী,গায়কদের ফোন দিয়ে ঢাকা থেকে ওখানে নিয়ে যেতেন।যাওয়ার মাধ্যম ছিলো মহিষের গাড়ী(গরুর গাড়ি)কারণ হাঁটু সমান কাদা রাস্তায় কেউ ভয়তে যেতো না।কিন্তু শিল্পীরা স্যারের ভয়ে(ভালোবাসা) এই কাদা রাস্তা পাড়ি দিয়ে যেতেন।সেখানে শিল্পীদের নিয়ে অনেক মজা করতেন।কাউকে ভূতের ভয় দেখাতেন,কাউকে বরণ করার জন্য ব্যান্ডপার্টি দিয়ে বাঁশি বাজিয়ে বরণ করতেন।কখনো রাতে পাঁচিল(দেওয়াল) এর চার পাশে ক্যান্ডেল(মোমবাতি) দিয়ে আলোকিত করতেন।যা দেখে ঢাকা থেকে আগত অভিনয় শিল্পীদের মনের সব কষ্ট দূর হয়ে যেত।

স্যার নাটক তৈরি করার শেষে ক্যাম্প ফায়ার করতেন।আর্মিদের মত এই কাজটি করতেন এই কারনে যে,নাটক করতে গিয়ে কারও না কারও সাথে বকাবকি বা শাসন করা হয়ে যেত বেশি।তাই ক্যাম্প ফায়ার করে সবাই মনের দুঃখ ভুলে যেত।রান্না করা হতো মেজবানের মত করে।সময় পেলে নাটকের ইউনিট নিয়ে বিদেশে ঘুরতে যেতেন।

স্যার ভালো বাসতেন…….
একা থাকতে।
লিখতে।
আড্ডা দিতে।
দুষ্টুমি করতে।
ঘুরতে।

আজ স্যার আমাদের মাঝে নাই।কিন্তু তার অসংখ্য লেখা বই আর তার হাতে তৈরি নাটক, ছবি আছে।এর মাধ্যমে স্যার আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন অনেক বছর।

আজ স্যারের জন্মবার্ষিকী। আমার পক্ষ থেকে স্যারের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। স্যার আপনি যেখানে থাকুন ভালো থাকুন।

#প্রবাসডায়েরি।
#হুমায়ন
আহমেদ।
#shahinakter367

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s