মজার স্মৃতি স্মরণে।

মজার স্মৃতি স্মরণে।

Md Shahin Akter

জাকারিয়া আর আমি ২০১৫ সাল রমনার বটমূলে।

অনেক দিন পর কথা হচ্ছিল জাকারিয়ার সাথে….
কথার এক পর্যায়ে পুরাতন একটা কথা মনে পড়লো দু’জনের…..

আমরা তখন যশোর পলিটেকনিকে নতুন ভর্তি হয়েছি মাত্র।হোস্টেলেও নতুন বটে।পরিবেশ আর নতুন মানুষের সাথে মানিয়ে চলা আমার মত গ্রাম থেকে উঠে আসা সাধারণ পরিবারের সন্তানকে অনেক বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।তেমনি অনেক বিড়ম্বনায় পড়েছি,কেটে উঠেছি আবারও সমস্যায় পড়েছি তার থেকে মুক্তিও পেয়েছি।
আমার জীবনের প্রথম রুমমেট জাকারিয়া, শান্ত ও আওরঙ্গজেব। তারা আমার থেকে অনেক গুণ ভাল এবং সেই রকম এক এক জন।তাদের পথ চলছে এখনো,হয় তো আমি নাই, আবারও হয় তো কোনদিন হঠাৎ করে বাসস্ট্যান্ডে অথবা কোন শহরের চায়ের দোকানে দেখা হয়ে যাবে।নতুবা প্রযুক্তির দুনিয়ায় ফেসবুকে খুঁজে বের করে আড্ডা জমাতে হবে।কিন্তু ইচ্ছা থাকা শর্তেও বাস্তবতার সাথে পেরে উঠা মুশকিল।
আমি একজন মানুষ।ভুল ত্রুটি থাকবে স্বাভাবিক। এবং ভুলও করব বারবার এটাও স্বাভাবিক। কিন্তু ভুল সংশোধন করতে হবে চলার পথে এটাও তেমনি স্বাভাবিক। তা নাহলে মানুষের সাথে বসবাস করা সম্ভব না।

আমি সেই দিনের একটা মজার ঘটনা বলবো আজ।
প্রতি সপ্তাহে বন্ধ পড়লে হোস্টেল থেকে সোজা সাইকেল চালিয়ে বাড়ির পথে রওনা দিতাম।পরের দিন সকালে কখনো আসতাম অথবা শুক্রবারের রাতেও কোনদিন আসতাম।আমাদের মিল(খাবার) বন্ধ করতে হলে কার্ড জমা দিতে হয় ম্যানেজারের কাছে। কোনদিন বন্ধ করে চলে যেতাম আবার কোনদিন বন্ধ না করেই চলে যেতাম।আমার কার্ডের মিল(খাবার) খেত আমার রুমমেট জাকারিয়া, কখনো শান্তকে বলে গেলে শান্ত খেত আবার কখনো নাও খেত।

কিন্তু এই মজার ব্যাপার না শেয়ার করলে নয়।কোন একদিন আমার আসতে একটু রাত হয়েছে শুক্রবারের রাতে।এসে দেখি টেবিলে কার্ড নাই।তখন মেজাজ টা খারাপ।খোঁজ নিয়ে জানলাম জাকারিয়া খেয়েছে মিলটা(খাবার)। তখন তার উপর রাগ, “কেন খেলি,আমি আসবো তুই জানতিস না?” বিভিন্ন কথা বলাতে সেও রাগ করে আমাকে বললো,”কাকা তোর মিলের দাম আমি দিয়ে দিবানে কত টাকা হয় জানাস আমাকে আমি দিয়ে দিবো যা। ”

মাস শেষে সে নিজেই হিসাব করে দেখলো মিল রেট ১৭.৫০পয়সা করে।তখন সে আমাকে হিসাব করে টাকা দিলো।আমি নিয়ে নিলাম।
নেওয়ার কারণটা আজ বলতেই হচ্ছে আমাকে।কারণটা হলো এই কথাটি পুরো হোস্টেল হয়ে যাবে এবং কেউ কারও কার্ড বিনা অনুমতিতে যাতে না খায়।খেলে এমন জরিমানা।

তাই সেদিন বুঝে নিলেও আজ সেটা স্মৃতি এবং খুবই মজার ব্যাপার।
আজকে জাকারিয়া হিসাব করে টাকা ফেরৎ চাইছিলো আড্ডার এক ফাঁকে , আমি তাকে বলেছি দিয়ে দিবো যেদিন দেশে আসবো।হিসাব করে রাখিস।হিসাব করে দেখি আজ সেই দিন গুলো অনেক বছরে পরিণত হয়েছে।
৮টি বছরে পার করে ফেলেছি দেখতে দেখতে…..

এমনি করে বদলিয়ে যাবে গল্প,স্থান,কাল,পাত্র….
শুধু থাকবো না আমরা…..!!

মিস ইউ তোদের ভালো থাকিস তোরা।
প্রবাস থেকে আমি তোদের স্মরণ করছি মনে মনে।

#প্রবাসডায়েরি।
#স্মৃতিগত।
#যশোর
পলিটেকনিকহোস্টেল।
#মজার
ঘটনা।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s