কলাম:- আমার দেখা একজন হাসিব ভাই ও প্রসঙ্গ কিছু কথা।

কলাম লেখাক:-Md.Shahin Akter

হাসিব ভাই একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার।আমি একটু গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের সম্পর্কে আগে একটু বলি,গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের পছন্দ সব সময় অন্য রকম হয় অন্য দশজন থেকে আলাদা।কারণ,তাদের বায়ারদের পছন্দমত কাজ করতে করতে এক সময় তারা দারুণ এক্সপার্ট হয়ে ওঠে সব কিছু পছন্দ করার ক্ষেত্রে।
হাসিব ভাই এর সাথে পরিচয় আমার কলেজ জীবনে।তিনি আমাদের এক ক্লাস উপরে পড়তেন।তার চলার স্টাইল, কথা বলার ধরণ, ও তার বর্তমান যে কাজ তিনি করেন সেটাও আমার বেশ ভালো লাগে।
আজ হাসিব ভাইয়ের ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখে আমার এই লেখাটা লিখতে মন চাইলো তাই লিখতে বসা।
হাসিব ভাই আর আমি একই ডিপার্টমেন্ট এর ছাত্র।তিনিও কম্পিউটার ডিপার্টমেন্ট এর ছাত্র,আমিও। তিনি জনাব সুজিত,বিথী ম্যাডাম ও জনাব সোহেল পারভেজ স্যারের ছাত্র, আমিও,তিনি যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর ছাত্র,অামিও।আমাদের পলিটেকনিক কলেজের প্রায় সময় শিক্ষক সংকট থাকে, তাই মাঝে মাঝে বাধ্য হয়ে গেস্ট টিচার দিয়ে শিক্ষা কাজ পরিচালনা করতে হয় কলেজ কর্তৃপক্ষকে।এখন কি অবস্থা তা আমার জানা নাই!আমাদের ডিপার্টমেন্ট এর স্থায়ী শিক্ষক বলতে উপরের উল্লেখিত শিক্ষক ছাড়া অন্য সব গেস্ট টিচার। আমাদের বিভিন্ন কারণে কলেজ বন্ধ থাকে প্রায় সময়, ছয় মাসের সেমিস্টার পায় চার মাস।তারপর চল্লিশ মিনিটের ক্লাসে একটা বিষয় বুঝাতে না বুঝাতে চলে যায় সময়।বিভিন্ন সঙ্গত কারণে আমাদের বাধ্যবাধকতা থেকেও যে একজন হাসিব,একজন পিয়াস দের জন্ম হচ্ছে আমাদের যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে তা নিঃসন্দেহ গর্ব করার বিষয়।আমি অন্য দিকে গিয়ে লেখার বিষয়বস্তু বড় করবো না। তারপরও কথা বলার প্রসঙ্গে কিছু কথা বলতে হয় বা চলে আসে।

হাসিব ভাই একজন মেধাবি, একজন খুবই ধৈর্যবান ব্যক্তি(গ্রাফিক্স কাজই হলো চরম ধৈর্যের),একজন পরিশ্রমী ও স্মার্ট বয়।
আমরা ছিলাম সকালের শিফটের ছাত্র।আমাদের কম্পিউটার ডিপার্টমেন্ট এর নীতি ছিলো কোন শিক্ষক আসুক বা না আসুক তোমাদের সকাল আট’টার মধ্যে ডিপার্টমেন্ট এর সামনে হাজির দেখতে চাই।এক মিনিট দেরি হলে সবার সামনে অপমান। তাই সকল ছাত্র-ছাত্রীরা এই রুল খুবই মেনে চলতো।আমরা গেটের সামনে এসে গল্প আড্ডা করতাম,হাসিব ভাই সহ তাদের ব্যাচের বন্ধুরাও এসে আড্ডা দিতো সেই গেটের সামনে।সেই থেকে চেনা-জানা।আমি তখন কলেজের হোস্টেলে থাকতাম।বাইরে কম যেতাম।কলেজ শেষ হলে সোজা হোস্টেল।তেমন কোন বাইরের লোকের সাথে আমার পরিচয় হওয়ার সম্ভাবনা কম ছিলো।তারপরও ডিপার্টমেন্ট এর ভাইদের সাথে পরিচয় হয়ে যায় ইচ্ছাতে বা অনাচ্ছাতেও।কারণ আমরা তো সবাই একই ডিপার্টমেন্ট এর ছাত্র এবং একই সাদের নিচে লেখা পড়া করি।
তিনি একদিন একটা ভিডিও এডিটিং করে আনলো,সেটা আমাদের প্রজেক্টর এর মাধ্যমে দেখালো।তার ওই কাজ দেখে খুবই আগ্রহ তার কাজের প্রতি।তারা যখন ক্লাস শেষ করে চলে যেত কম্পিউটার ল্যাব থেকে আমরা যখন ওই কম্পিউটার ল্যাবে ডুকতাম তখন হাসিব ভাই কোন কম্পিউটার বসে কি কাজ করেছে তাই খুঁজতাম।কিন্তু পেতাম না।কারণ তিনি পেনড্রাইফে করে আনতো পরে তা ডিলিট করে দিতো।

হোস্টেল ও কলেজ সঙ্গত কারণে বন্ধ ঘোষণা করা হলো অনির্দিষ্ট কালের জন্য।কিছুদিন পর কলেজ খুললেও হোস্টেল বন্ধ রহিল ,আমাকে বাসা থেকে প্রতিদিন ক্লাস করতে আসা লাগতো।আমি প্রতিদিন ভোরে সাইকেল চালিয়ে আমার বাসা থেকে আসতাম।মাঝে মধ্যে রেলগেটে আমার বন্ধু আওয়ালের মেসে থেকে যেতাম।রেলগেটের ওখানে আদ্ব-দীন চক্ষু হসপিতালের সামনে হাসিব ভাইকে দেখি প্রতিদিন যাওয়া আসার সময়।আমি আওয়ালকে একদিন জিজ্ঞাসা করলাম,”হাসিব ভাই এর বাসা কোথায়? “,তখন বললো, ভাই এর বাসা ওখানে।মাঝে মধ্যে আওয়াল হাসিব ভাই এর কাছে কাজ শিখতে যেত।

হাসিব ভাই সম্পর্কে আওয়ালের কাছ থেকে অনেক কিছু শুনতাম জানতাম।মনে ইচ্ছা হলো হাসিব ভাই এর কাজ দেখে আমরাও করবো গ্রাফিক এর কাজ। কিন্তু হলো না সঙ্গত কারণে।আমাদের এটাসমেন্ট চলে আসলো,কলেজ লাইফ শেষ পর্যায়ে।আমরা কয়েকজন বন্ধু আর বান্ধবী মিলে জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনে এটাসমেন্ট করলাম।সেখানে দুদিন আউটসোর্সিং কর্মশালাতে হাসিব ভাইকে আমরা শিক্ষক হিসাবে পেলাম।তিনি অনেক কথা বললেন।ফ্রীল্যান্সিং সম্পর্কে ধারণা দিলো,নতুন নতুন ওয়েভ সাইটের ঠিকানা দিলো।কেমন করে কাজ শুরু করতে হয় তা শিখালো।জাগরণী চক্রে আমাদেরই পরিচিত এক ভাই, শিমুল ভাই তিনিও আমাদের খুব যত্ম করে শিখাতেন নেটওয়ার্কিং,তার কথা না বললে নয়।বিজন দাদা শিখাতেন ওয়েভ ডিজাইন।
যায় হোক, তিনি যে ফ্রীল্যান্সিং পেশাতে যুক্ত হয়েছে তা ততদিনে আমরা বুঝলাম।তিনি নিয়মিত গ্রাফিক্স এর কাজ করেন আর সেই কাজের টিউটোরিয়াল করে নিজের নামে ইউটিউভ চ্যানেলে আপলোড দেন।সেখান থেকে অনেক তরুণ- তরুণী তার কাজ থেকে শিখেছে এবং এখনো শিখছে।শুধু বাংলাদেশ নয় তার কাজ দেখে বাইরের দেশের কিছু তরুণ-তরুণীও।
এখন তার ইউটিউভ ভেরিভাইড এবং সিলভার বাটনও তিনি পেয়েছেন।তার ফেসবুক ফলোয়ারও অনেক।তিনি একজন ফার্চুয়াল জগৎ এর #নেতা বললে ভুল হবে না।যদি তার বাস্তব দুনিয়াতে পরিচয় কম হয় তাহলেও ভার্চুয়াল জগতে তার পরিচয় অনেক।
হাসিব ভাই তার ফেসবুকে তার শুরুর জীবনের কষ্টের গল্প বর্ণনা করেছে,তার গল্প আসলে অনুকরণীয় এবং পথেয় হয়ে থাকার মত বর্তমান প্রজন্মের জন্য।
আমরা যতটা না ফেসবুকে থাকি তার চেয়ে খুব কম সময় টেক্স বুকে চোখ বুলায়।আমাদের ডিজিটাল প্রজন্ম শিখছে অনলাইন থেকে।আর সেই অনলাইনের একজন শিক্ষক হাসিব ভাই।
আইমন সাদিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র হয়ে দেশের যেমন গর্বের বিষয়, আর আমাদের হাসিব ভাই যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর ছাত্র হয়ে গোটা দেশেরও গর্বের বিষয়।বাংলাদেশের বংশধর সালমান খান তার খান একাডেমির উদ্যোক্তা হলে আমাদের হাসিব ভাই তার নিজের হাস-হাসিব একাডেমির উদ্যোক্তা।

আমরা বড় বড় মনীষী দের জীবনে দেখলে তাদের কষ্টের কথা জানতে পারি।কষ্ট না করলে কেষ্ট মেলে না।#জ্যাকমা (আলীবাবা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা)তার জীবনীও খুব কষ্টের ও ব্যর্থতায় ভরা।KFC এর প্রতিষ্ঠাতা #ডেভিডসান্ডারের জীবনী পড়লে তার কষ্টের কথা জানতে পারি আমরা।আমার বাংলাদেশের একজন শীর্ষ ধনী যশোরের কৃর্তী সন্তান #শেখআকিজ সাহেবের জীবনী পড়লেও আমরা কষ্টের কথা জানতে পারি।এমনকি আমরা যে ফেসবুকে সারাদিন থাকি তার প্রতিষ্ঠাতা #মার্ক_জাকারবার্গের জীবনী পড়লে অনেক কষ্ট, ব্যর্থ আর সফলতার কথা জানতে পারি।এমন শত শত মনীষীদের জীবনী পড়লে কষ্ট,ব্যর্থতা, পরাজয়, গ্লানি আর চরম হতাশার কথা জানতে পারি।
তার মধ্যে থেকেও সংগ্রাম আর যুদ্ধ চালিয়ে আজ তারা সফল একজন নায়ক হয়ে ওঠেছে।তাদের সফলতার পেছনের হাজারও ব্যর্থ কাহিনী আছে।

হাসিব ভাইও একজন সফল নায়ক হতে যাচ্ছে….
সকল ব্যর্থতা আর হতাশার গ্লানি পেছনে ফেলে।
তার উত্তরাত্তর সফলতা আমি ব্যক্তিগত ভাবে কামনা করছি।
শেষ করবো আরো কিছু কথা বলে, একজন চাকর না হয়ে সফল উদ্যোক্তা হওয়া আমার কাছে মনে হয় উত্তম।আর হাসিব ভাই সেই কাজই করছেন।বসের কোন বকা বা কাজের কোন প্রেশার থাকে না।নিজের কাজ নিজের মত করে করা যায়।তবে সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়,বায়ারদের ক্ষেত্রে ভিন্ন।কিন্তু তিনি তো একজন সফর উদ্যোক্তা।
আমি বিনীত ভাবে অনুরোধ করবো আপনারা সফল উদ্যোক্তা হওয়ার চেষ্টা করুন।আর পারলে ফ্রীল্যান্সিং কাজ শিখে নিজের ও দেশে ভাগ্য পরিবর্তনে এগিয়ে যান।সরকারি চাকর হতে দশ লাখ বা পনের লাখ টাকা ঘুষ না দিয়ে হাসিব ভাই, বা পিয়াস ভাই অথবা রাকিব ভাইদের মত সফল উদ্যোক্তা হোন।

ধন্যবাদ জানাই সব টুকু পড়ার জন্য।
উৎসর্গ:- হাসিব ভাইকে।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s