চলার পথে এমনো তো হয়!(৪)

চলার পথে এমনো তো হয়!(৪)
Md Shahin Akter

আমি, শুভ, MD Azim Khan Sheshir আর S.m. Shofiul Alam মিলে রওনা হলাম খুলনা রুপসা সেতু দেখতে ট্রেনে করে।ধান্দা ছিলো ট্রেনে টিকিট কাটবো না,টিকিটের টাকা দিয়ে খুলনা শহর ঘুরবো।সবাই চোখে চোখে টিটি কে দেখছে।কই যায়,কোন রুমে টিকিট চেক করে।এইভাবে চোর পুলিশ খেলতে খেলতে ছিট খালি পেয়েছি বসে পড়লাম।আমি জানালা দিয়ে বাইরের দৃশ্য দেখছি আর ওরা সবাই বাদাম কিনে খাচ্ছে।এমন সময় টিটি মামা এসে হাজির।টিকিট দেখি,আমি উত্তরে বললাম, দেখানো শেষ হয়ে গেছে।বেচারা তাই শুনে সামনে এগোলো।পড়বি না পড়বি ধরা এবার শুভোর কাছে টিকিট চাইলো,ও সোজা আঙ্গুল উচু করে আমাকে দেখিয়ে দিলো।টিটির মনে সন্দেহ জাগলো বললো,বাবা তোমরা সবাই টিকিট দেখাও দয়া করে!আমরা তো আসামি হয়ে গেলাম।কথা ছিলো যশোরের মধ্যে কোথাও দেখা হলে টিটিকে বলবো আমরা সামনের স্টেশনে নামবো।কিন্তু তা আর হলো না কারণ ততক্ষণে আমরা খুলনা শহরের কাছাকাছি।হাত পা ধরে চারজনের জরিমানা সহ ১০০টাকা গচ্ছা গেলো!কি আর করা বেশি লাভের গুড়ে বালি হয়।
বেশি টাকা নাই কারও কাছে, সারাদিন টো টো করে ঘুরা,দুপুরে সিঙ্গারা খাওয়া, সস্তা হোটেলে কোন রকম পেট বাঁচানো এইভাবে চললো খুলনা শহরে ঘুরাঘুরি।রুপসা সেতু দেখলাম, দেখলাম রুপসার নিচে উপরে পাশে সব দিকে ঘুরলাম।আসরের নামায পড়লাম র্যাব(RAB)-৬ এর সাথে রুপসা সেতুর নিচে।খুলনা গিলেতলা গেলাম ঘুরতে।তারপর গো ব্যাক হোম রওনা।খুলনা বাসস্টপে এসে দেখি বাড়ি আসার টাকা নাই কারও কাছে।হিসাব করে দেখা গেলো আছে মাত্র ৫০টাকা চার জনের পকেট খুুঁজে।সিদ্ধান্ত নিলাম কাছে কোন আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে গিয়ে রাতটা কাটাবো তারপর সকালে টাকা ধার নিয়ে বাড়ি যাবো।যেই বুদ্ধি সেই কাজ।ফুফুতো বোনের বাড়ি কাছাকাছি,ফোন দিলাম বললো তোরা সোজা চলে আই ভাঙ্গা গেটে নেমে আমাকে ফোন দিলে তোদের নিয়ে আসবো।আমার দুলাভাই এর নাম ফারুক।রাত হয়ে গেছে তাই একটা ভ্যান নিলাম চারজনে দশ টাকা দিয়ে।বললাম ফারুকের বাড়ি যাবো।লোকটি সোজা অন্য এক ফারুকের বাড়ি নিয়ে গিয়ে হাজির।এদিকে আমার বোন আমাকে হন্ন হয়ে খুঁজতেছে।আমার ফোনের চার্জও শেষ প্রায়।শেষ কল করে বললাম ওমুক ফারুকের বাসার সামনে তুই আমাদের নিয়ে যা,না হলে রাতে আমাদের চোর বলে তাড়াবে লোকে।বোন আমাদের নিয়ে গিয়ে যত্ন করে খাওয়ালো সেবা করলো।রাতে ঘুমানোর ব্যবস্থা করলো। অনেক মজা করলাম।তবে রাতে মুলা দিয়ে ভাত খাওয়ার কারনে অনেক পাদাপাদি হয়েছে তয় ভয়ের কোন কারণ ছিলো না। আমার কাছে বডি স্প্রে ছিলো যা দিয়ে পরিবেশ স্বাভাবিক করা হয়েছে।বোনটাকে হঠাৎ না বলে যাওয়া তাও আবার একজন-দুজন নয় চারজন!সে তো লজ্জাতে পড়বেই।সকালে আমরা জোর করে বিদায় নিলাম কিছু টাকা হাওলাত করে।আজও সেই টাকা আমি বা আমরা দেয় নি।
#প্রবাস_ডায়েরি।
#স্মৃতিগত

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s