কিছু অপ্রসাঙ্গিক কথা: স্কিল ডেভেলপমেন্ট!

ছবিঃ- সংগৃহিত।

যুগের সাথে সাথে অনেক কিছুরই পরিবর্তন হয়েছে।পাল্টেছে আপনার চারপাশের পরিবেশ,পাল্টে গেছে বিশ্ব থেকে গ্রাম-গঞ্জ।হাতে হাতে আজ সকলের স্মার্ট ফোন কিন্তু খুঁজে পাওয়া গেলো কিছু আনস্মার্ট ছেলে-মেয়ে কে।হ্যাঁ গত ৫-১০-১৭ইং তারিখে যশোর আইটি পার্কে জব মেলাতে সবাই সিভি হাতে লিখে এনেছে বলে অনেক বক্তারা তাদের আনস্মার্ট বলেছে।আর বলাটাও স্বাভাবিক।এই যুগের তরুণ কিংবা তরুণী এই হলো তাদের হাল?তারা হার্ড কপি নিয়েই সোজা চাকুরির জন্য হাজির।তাদের কারও কাছে হয় তো সফট কপিও ছিলো যেটা মেইল বা অন্য কোন মাধ্যমে চাকুরী নিয়োগদাতা সংস্থাকে দিতে পেরেছে।এই জব মেলাতে হাজার হাজার শিক্ষিত তরুণ আর তরুণীদের পদচারণ মুখরিত অঙ্গনে পরিণত হয়েছে আবার পুলিশের লাটি পেটাতে বিষাক্ত অভিজ্ঞতাও হয়েছে অনেকের।বলতে শুনা গেছে খারাপ কথাও।এই জব মেলাতে এত লোক হওয়ার পিছনে কিছু কারণ আমি দেখি,যদিও এটা(লোকসংখ্যা) তুলনামূলক ভাবে কম-
১.স্যোসাল মিডিয়া প্রচারণা।
২.বিপুল সংখ্যক শিক্ষিত বেকার।
৩.উৎসুক তরুণ-তরুণী ভীড়।
৪.পত্রিকার বিজ্ঞপ্তি।
৫.মানুষের মুখে মুখে রটে যাওয়া।
চাকুরী কার হলো বা কার হলো না এটা নিয়ে আমি লিখতে বসি নাই আজ।আমি কিছু বিষয়ের প্রতি নজর দিতে বলবো বর্তমান যুগের তরুণ মেধাবিদের।আমিও তরুণ।আমিও চেষ্টা করছি। স্কিল ডেভেলপ করতে হবে নিজেকে!কিভাবে করবেন ভাবছেন?
যে কোন বিষয়ের প্রতি আপনার স্কিল হতে পারে।স্কিল বলতে যোগ্যতা বুঝানো হয় আইটি বিষয়ে।যেমন আপনি শুধু এমএস অফিসে খুব সুন্দর বাংলা বা ইংরেজী লিখতে পারেন।সেটাও আপনার স্কিল।এটা দিয়েও আপনি যোগ্যতার প্রমাণ দিতে পারেন।যদিও এটা কম্পিউটার এর হাতে খড়ি বলা হয় এমএস অফিস কে।এখন কিছু সর্ট কোর্সের নামে কিছু প্রতিষ্ঠান ছয় মাস,তিন মাসের সার্টিফিকেট বের করছে এই এমএস অফিস শিখিয়ে।
পরের কথাতে আসি….
বাংলা কী-বোডের জনক জনাব মোস্তফা জব্বার সাহেব কোন কম্পিউটার ল্যাংগুজ (প্রোগ্রাম ভাষা,সি,সি++,জাভা,ওরাকল,ভিবি ইত্যাদি) না জেনেও তিনি আজ বাংলা কী-বোড তৈরি করেছেন।(তথ্য সূত্রঃ- উইকিপিডিয়া।) সাথে সফটওয়্যারও।তিনি বর্তমান বাংলাদেশের বেসিস এর সভাপতি।তিনিও এই যশোর আইটি পার্কে শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসে ছিলেন অনন্য অতিথি দের সাথে।তার সাথে ২০১৩সালের ফেব্রুয়ারিতে যশোর বিসিএস মেলাতে দেখা হয় আমার,তার অনেক উপদেশ আর অভিজ্ঞতার কথা তিনি সেদিন শেয়ার করেছিলেন।বিশ্বের সাথে বাংলাদেশকে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে এই তরুণদের তার সেই মূল কথাটি বলেছিলেন সেদিন।তার কথা এখানে এই জন্য বললাম, তিনি চেষ্টা করেছেন কিছু একটা করবেন বলে আজ সেটাতে তিনি সাকসেসফুল।তাই তিনি চান তরণরা জেগে উঠুক তার চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে।
একই অনুষ্ঠানে সুলায়মান ভাই মোটিভেটিভ করার জন্য অনেক কথা বলেছেন।জানি না কতটুকু মোটিভেট করতে পেরেছেন তিনি।তবে আমার মনে হয় এত বিশাল বেকারদের কোন কাজ না শেখালে বা পথ না খুলে দিলে হাজার হাজার বাণী প্রচার করলে কোন লাভ হবে না।তাদের কর্ম দিতে হবে,দিতে হবে কর্ম তৈরি করার শক্ত অবস্থান। সাথে সহযোগিতা। তাহলে সোলায়মান ভাইদের এত হাজার হাজার বাণী খরচ করতে হবে না।হবে না বিমান খরচ দিয়ে এই মোটিভেট করার জন্য ছুটে বেড়াতে।তারচেয়ে বড় কথা হলো সুলায়মান ভাই চেষ্টা করছে মোটিভেটিভ করতে কিন্তু তরুণ প্রজন্ম যদি মোটিভেট না হয় তবে আস্ত সোলায়মান খাইয়ে দিলেও কাজ হবে না।আমার কাছে তাই মনে হয়েছে।
কিছু পরামর্শ আছে সোলায়মান ভাই এর মত যেমন:-

১.আপনি কম্পিউটার নিয়ে গেম না গেলে একটা ভিডিও টিউটোরিয়াল দেখেন, সেটা হতে পারে গেম তৈরি করার বা কম্পিউটার মেরামত করার মত কোন ভিডিও।নিজের মধ্যে ইচ্ছা শক্তি থাকতে হবে।
২.ফ্রীল্যান্সার’রা অনেকে রাত জেগে কাজ করে আবার অনেকেই রাত জেগে জিএফ এর সাথে কথা বলে।আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কোনটা করবেন?
৩.কম্পিউটার ব্যবহার করে কেউ মাসে লাখ টাকা উপার্জন করে আবার কেউ কম্পিউটার নষ্ট হয়েছে এই অজুহাতে বাপের কাছ থেকে হাজার টাকা নষ্টও করে।এখন আপনি কেমন সেটা প্রশ্ন আপনার বিবেকের কাছে।
৪.সকলের সমর্থ থাকে না,যার থাকে সে করতে চাই না।আর যার থাকে না সে প্রাণ পণ চেষ্টা করেও পারে না।সেটা কপালও লাগে।যেমনটা আমি।আমার চেষ্টা আছে সমর্থ নাই।
৫.আজ আপনি শুরু করেন, কাল আপনি বস হবেন।এটা সত্য।তবে শুরুটা কারও শুভ হয় না।তারপরও থেমে থাকতে নেই।
স্কিল হতে পারে আপনার ডিজাইন এর উপর,হতে পারে কম্পিউটার মেরামতের উপর,হতে পারে নেটওয়ার্ক এর উপর আবার হতে পারে সাধারণ এমএস ওয়াডে লেখা-লেখিতে।
*বিশ্ব আজ ইন্টারনেটের যুগে খোলা।কেউ ঘরে বন্ধি নেই।আপনি যেটা হতে চান হাত বাড়িয়ে দিন আর চেষ্টা করুন।গুগল মামা আছে জিজ্ঞাস করুন উত্তর পাবেন।ইউটিউভ আছে দেখিয়ে দিবে।কিছু জিনিস পাবেন না সেটা খুঁজে নিজের মত করে সাজাতে হবে।
খারাপ দিক বাদ দিয়ে ভালো দিক খুঁজলে ভালো হবে বলে আমি আশা করি।আপনি চাইলে ইউটিউভ চ্যানেলে আপনার সৃজনশীল কোন কিছু দেখিয়ে টাকা আয় করতে পারেন।বাংলাদেশে অনেকেই করছে।যেমন হাসিব ভাই করেন।তিনি একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনারর।তারও একটা ইউটিউভ চ্যানেল আছে।আছে ছোট খাটো একটা ব্যবসা।আপনি গুগল থেকে টাকা আয় করতে পারেন।আপনি ফেসবুক ব্যবহার করে টাকা আয় করতে পারেন।শুধু আপনার স্কিল যে এক জায়গাতে আটকিয়ে থাকবে তা নয়।দুনিয়া খোলা সেটা আমি আগেই বলেছি।সালমান মুক্তাদি ছেলেটা আজ বাংলাদেশের বড় ইউটিভার।সে অনেক টাকা আয় করে প্রতি মাসে ইউটিউভ থেকে।অনেকে প্রোগ্রাম বুঝে,তারা তো আরো ভালো করছে আইটি তে।অ্যাপস তৈরি করে তারাও টাকা আয় করছে।আজ কাল অনেক গানের শিল্পীরা তাদের নিজের নামে ইউটিউভ চ্যানেল খুলে তাদের গান প্রচার করছে,সেখান থেকেও তারা আয় করছে।কেউ ওয়েভ পেজ তৈরি করে ডোমেইন বিক্রি করে বা পেজে এড দিয়ে টাকা আয় করছে।এই ভাবে বিভিন্ন দিক থেকে আজ প্রসারিত হচ্ছে দিন কি দিন।শুধু সৃজনশীল থাকতে হবে মাথাতে।ঘরে বসে ফেসবুকে স্ট্যাটাস আর ছবি তুলে পোস্ট দিলে আপনি ক্রীয়েটিভ হতে পারবেন না।অথবা ডিএসএএল ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলে পরে ছবি আপলোড করে নিজের স্কিল বাড়াতে পারবেন না।কাজে লাগাতে হবে আপনার প্রতিভাকে।আপনি ডিএসএএল ক্যামেরা দিয়েও প্রতিভা বিকাশ করতে পারেন তবে নিজের ছবি তুলে নয়।
আপনাকে ভাবতে হবে আপনি ইতিহাস, ভুগোল বা পদার্থ বিজ্ঞান নিয়ে পড়ার পাশাপাশি তথ্য প্রযুক্তির উপর পর্যাপ্ত জ্ঞান অর্জন করতে হবে।তাহলে আপনি যুগের সাথে তাল মিলাতে পারবেন।
আর এই ভাবে আস্তে আস্তে আপনি স্কীল ডেভেলপ করতে থাকবেন এবং ইনশাল্লাহ পারবেন।
ধন্যবাদ পড়ার জন্য।

লেখক:- প্রবাসী।
তারিখ:-০৭-১০-১৭ইং
#প্রবাস_ডায়েরি।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s