আপনজন ছেড়ে আজ আমি প্রবাসি

20161130_215836

#৩০১১২0১৬ইং
#রোজবুধবার
রাত ৯:৫০ মিনিট বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইনে (বোয়িং-৭৩৭-৮০০,ফ্লাইট নং বিজি -০৮৬) সকল যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করার কথা থাকলেও আঁধা ঘন্টা বিলম্ব হলো প্রধানমন্ত্রী হাঙ্গেরি থেকে আগমনের কারনে।তারপর ১০:২৫ আমাদের বিমান আকাশের পথে যাত্রা শুরু করে মহান আল্লাহর রহমত নিয়ে।যখন বিমান উঠতে লাগলো বুকের মধ্যে চাপা কান্নাকে বারবার আটকাতে চেষ্টা করলাম কিন্তু চোখ দিয়ে পানি আটকিয়ে রাখতে পারলাম না।পাশের সিটে বসা মানুষটাও বুঝতে পারলো না।আপনজন ছেড়ে নিজ দেশে প্রবাসী ছিলাম কিন্তু এক-দু মাস পর পর আপনজনদের কাছে ছুটে যেতাম বিভিন্ন বাহানা করে,কাউকে বুঝতে দিতাম না।আজ পরদেশে প্রবাসী হলাম(আর যেতে পারবো না বারবার 😦 ) ।নিজের তকদির কে বিশ্বাস করার নাম ঈমান।সেটা অবিশ্বাস করার ক্ষমতা বড় লোক কোটিপতি দের থাকতে পারে,আমার মত মহা গরীবের নাই।তাই উড়াল দিতে হলো ১৬,৬৬৭+ মাইল(আকাশ পথ) দুরে নিজ তকদিরের উপর ভরসা করে।আমি জানালার পাশে বসে বারবার বাইরের দিকে তাকাচ্ছি । ৩৩,০০০হাজার মাইল উপরে যখন আমাদের বিমান,তখন বাড়ি ঘর গুলো দেখতে রাতের আঁধারে জোনাকিপোকার মত লাগছে,রাস্তাঘাট আঁকাবাকা নদীর মত লাগছে,বিশেষ করে রাতের বেলাতে আকাশ থেকে পৃথিবী দেখতে যেমন দেখাই তেমন।বিমান বালা গুলো আমাদের সেবা করা শুরু করতে লাগলো।আমার মনটা থেকে গেলো প্রিয় স্বদেশের তরে,প্রিয় আপনজনদের তরে,বিশেষ করে মা আর বাবার কাছে।মা আসার সময় অনেক শব্দ করে কেঁদেছে,যা আগে আমি কাঁদতে দেখিনি।বারবার মায়ের কান্না প্রতিধ্বনি আমার কানে বেজে উঠছিলো(এখনো)।বোডিং পাস করার সময় বড় ভাবি কল করে বললো মা কাঁদছে একটু কথা বল।আমি লাইন কেটে দিলাম মনকে নিষ্ঠুর করে।কারণ ও সময় আমার মনকেও আমি শান্তনা দিতে পারতাম না।রাতে আর ঘুম হলো না।এত ঘুমানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি কোন কাজই হলো না।শেষমেষ বিমান ৪:০৫মিনিটে(মালাই সময়) অবতরণ করলো মহান সৃষ্টি কর্তার কৃপায়।আমারা বের হয়ে বেডিং পত্র নেওয়ার জন্য অপেক্ষা। শুরু হলো নতুন নতুন অভিজ্ঞতা।আরো হবে ১০০% যতদিন বিশ্বময়ে বেঁচে আছি।
একটু জামাই(বোনের বড় জামাই) এর কথা না বললে নয়।ছেলেটা অমাইক,সৌজন্যদাতা, ব্যবহার ভালো,খোজ খবর রাখে, ভালো মানুষ। এগুলো বলা মানে তেল মারা নয়।একজন মানুষের দোষ গুণ। আজ না হয় গুণের কথা বললাম।দোষ খুঁজে পেলে না হয় আর একদিন বলবো!আমাকে পিকআপ করা থেকে শুরু করে যত কাজ তার মাধ্যমে হচ্ছে।রক্তের বাইরেও যে মানুষ গুলো আপন হয় সে তার প্রমাণ।সহজ সরল লোক(দেখলে মনে হবে)।মানুষকে সহজে আপন করে নেই।
এখনো অনেক কাজ বাকী রয়ে গেছে,শেষ না করলে সমস্যাতে পড়তে হবে আমার।কারণ এটা দেশ নয়,বিদেশ।মা নাই,বাপ নাই,ভাই-বোন বলতে কেউ নাই।শুধু একটা পাসপোর্ট আমাকে আবার দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে সুষ্ঠু ভাবে।আর সেটার ই কাজ এখনো বাকি।তবে হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ।আর একটা ছোট জব খুঁজে নিতে হবে চলার জন্য কাউকে চালানোর জন্য।দেশ থেকে তো আর টাকা আসবে না বরং দেশে কিছু দিতে পারলে বেশ ভালো এবং দিতে হবে।
মালাই’রা অলস প্রকৃতির।এদের কে বিশ্বের দরবারে চিনিয়ে দেওয়ার অবদান ভিনদেশীদের।চীন,জাপান,ভারত,
থাইল্যান্ড,কোরিয়া ইত্যাদি দেশ এদেশে এসে ব্যবসা করে নিয়ে গেছে আবার কিছু দিয়েও গেছে।তাই এরা অলস বসে খায় আর ভিনদেশীরা রোজগার করে নিয়ে যায় আর কিছু দিয়ে যায়।বর্তমান সরকার মালাই দের বেশি অগ্রাধিকার দেওয়াতে তারা সরকারি চাকুরী পাশাপাশি বেসরকারি চাকুরীতে এগিয়ে।এদের রাস্তা-ঘাট দেখলে মাথা ঘুরবে।এত উন্নত আর বাড়ি গাড়ির কোন অভাব নেই।যার যার মত সে সে।কোন জোর জুলুম নেই,কাজ করে খায়।কেউ কারও পিছনে লেগে থাকে না।গাড়ি চলছে তা চলছে,কোথাও জ্যামের জন্য বসে থাকতে হয় না ঘন্টার পর ঘন্টা।বাসস্টপ আছে নির্দিষ্ট, সেখানে ছাড়া অন্য কোথাও দাড়াবে না।বেশির ভাগ লোকের নিজের প্রাইভেট গাড়ী আছে।বাসে উঠার লোক খুব কম,ভিনদেশী আমাদের মত লোকেরা বাসে করে ঘুরে বেড়াই। কেউ কেউ মোবাইলে গ্যার্প কার(grap car)এর মাধ্যমে ট্রেক্সি ভাড়া করে,দাম বেশি নেওয়ার কোন সুযোগ নেই।এখানে যারা কাজ করে, খাওয়ার সময় পায় না ঠিক মত।লোকের সাথে দেখার সুযোগ নেই(যদিও ভাগ্য ক্রমে কারও সাথে দেখা মেলে)। কেউ কার জন্য বসে নেই,যার যার কাজ তার তার।অবৈধ বাঙ্গালি ছাড়াও ভিনদেশী লোকও আছে এখানে।মাসে মাসে রের্ড এলার্ট দিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে অবৈধ লোক ধরে নিয়ে যায়।জেলখানা হলো দোযখ খানার মত।আরাম আয়েশ তো দুরের কথা, ছাড়া পেলে অপরাধ করার কথা আর জীবনে মনে করবেনা।এক ঋতুর দেশ।রোদ আর বৃষ্টি হয় প্রতিদিন কোথাও না কোথাও। খাওয়ার মান উন্নত।বসবাসের জন্য উপযোগি।টাকা থাকলে আপনিও ব্যবসা করতে পারবেন বুদ্ধি খাটিয়ে।যার টাকা আছে মালাই বা চাইনিজ দের সাথে বিয়ে করে এদেশে ব্যবসা শুরু করে দেয়।দেশে অনেক কিছু করছে আবার মালাইতেও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে বসে আছে।লাভ তো করেই বরং তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আরো বাঙ্গালি লোক কাজ করে দেশে টাকা পাঠাই হাজার হাজার।বর্তমান ডলারের রেট নিম্নগামী। সবার মাঝে একটা শোক আর আতংক!কবে আবার দাম বাড়বে কি,কমবে?বলা যায় না।বৈধ্য ভিসার জন্য এখন অনেক টাকা লাগে।কেউ এত টাকা ম্যানেজ করতে না পেরে অবৈধ ভাবে বসবাস করছে।দালাল ছাড়া কোন কাজ এখন হয় না।কারণ বাঙ্গালি যেখানে গেছে সেখানে দালাল আর ঘুষ গ্রহণের উপকারিতা পাঠ করিয়ে মনোমুগ্ধ করে ফেলেছে।তাই বর্তমান বাংলাদেশের মত ঘুষ গ্রহণ চলে।এটা দেখে অবাক হওয়ার কিছু নেই।মনে করবেন এটার সাথে স্বয়ং বাঙ্গালি জড়িত।
স্টুডেন্ট ভিসাতে অনেক লোক আসছে,এসে কাজ করে টাকা কামানোর মূল উদ্দেশ্য।যারা আসছে,তাদের নিজেদের লোক আছে।তারা তাদের সহযোগিতাতে কাজ করে বেড়াই। সবারই মূল উদ্দেশ্য টাকা কামিয়ে দেশে পাঠানো।সেই উদ্দেশ্য কারও স্বপ্ন ভঙ্গ হচ্ছে আবার কারও স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে।অনেকে দেশে ঋণ করে বিদেশে পাড়ি দেয় বিভিন্ন কষ্ট সহ্য করে।কারণ দেশে করে খাওয়ার মত কিছু নেই(একাবারে যে নাই বললে ভুল হবে,তবে সবার জন্য নেই)।যে দল ক্ষমতাতে যায় সেই দলের লোক জন বেশি সুযোগ খুঁজে।এখানে দলের কোন বড়াই নেই।সকল ক্ষেত্রে আইনের শাসন বিদ্যমান। আপনি একদিন বসে থাকলে আপনাকে কেউ খাওয়াবে না।এটা বিদেশ! আর্শ্চয হওয়ার কোন কারণ নেই।
অনেকে জানতে চেয়েছেন বিদেশ কেমন লাগছে?আমার সোজা উত্তর আপনজন ছাড়া যেমন কাটে!আপনি ঘি দিয়েও ভাত খেলে পেট ভরবে না,আপনজন ছাড়া।তাদের সাথে নুন দিয়ে ভাত খেলেও মজা পাইবেন।তারপরও আপনজনের মুখে হাসি ফুটাতে বিদেশে প্রবাসী অনেকেই।তাদের কষ্টের কথা স্বরণ করে হলেও টাকা পয়সা সাবধানে খরচ করবেন।
বিদেশ বিদেশ বলে পাগল হওয়ার কোন কারন নেই,সবাই এদেশে কামলা দিতে আছে,সার্কাস দেখাতে নয়।হায় রে বিদেশ!
টাকার জন্য মানুষ আজ আপনজন ছেড়ে কত দুরে???
#আপনজন
ছেড়েআজআমি_প্রবাসি
Md Shahin Akter

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s