মায়ের কানের দুল!!!

#মায়ের_কানের_দুল!!!”
—-Md Shahin Akter
#প্রসঙ্গ:- বর্তমান ছেলে আর মেয়েদের টাকা খরচের ধরন দেখে এটা আমার লেখা।

আজ সন্ধ্যায়(২৩/১১/২০১৬ইং,রোজ:-বুধবার) য.বি.প্র.বি এর গেটের সামনে বসে আমি আর রিপন ভাই গল্প করছি একটা দোকানের সামনে।লক্ষ্য করলাম প্রায় ছেলে-মেয়ে এসে ঐ দোকান থেকে বিকাশ থেকে টাকা বের করে দামি সিগারেট(B & H), নামি-দামি সব খাবার,ফোনের ফেক্সিলোড,ইত্যাদি কিনে নিয়ে যাচ্ছে আর বন্ধুদের সাথে হই-হুল্লো করে বেড়াচ্ছে।
দেখতে খুব ভালোও লাগছে আবার অতিরিক্তও মনে হয়ে যাচ্ছে একটু।তবে একটা বিষয় খুব খেয়াল করলাম সেটা হলো,তাদের যে বিকাশের টাকাটা কে দিচ্ছে আর কোথা থেকে আচ্ছে সেটা তারা কী একবারও ভাবে? হয় তো ভাবে না!এই প্রশ্নটা হয়তো পাঠকের কাছে অমূলক মনে হবে কিন্তু আমার কাছে এর একটা করুন কাহিনী লুকিয়ে আছে! যেটা আমি কাউকে বলেনি,আজ সেটা গল্পে গল্পে উঠে গেলো দোকানে।শুনে অনেকে বাহবা দিলো!
আসলে বাহবা পাওয়ার যোগ্য আমি নই! এটা আমার জন্মদাতা মাতা আর পিতার জন্য প্রাপ্য।তাদের অবদার অপরিসীম।

#আসল_ঘটনা_বলি:-
আমি তখন চতুর্থ পর্বের ছাত্র যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট যশোর, #কম্পিউটার_বিভাগ এর।তখন হোস্টেলে থাকি।প্রায়ই মাস শেষে টাকা আনতে বাড়িতে সাইকেল চালিয়ে যেতাম ক্লাস শেষ করে।হঠাৎ একদিন টাকা আনতে গিয়ে দেখি “আমার মায়ের কানের দুল ” তার কানে দেখতে পেলাম না! ভাবলাম হয় তো খুলে রেখেছে।তাই ইচ্ছা করে জিজ্ঞাস করা হয়নি(যদিও মনে মনে একটা সন্দেহ হলো)।আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম “মায়ের কানের দুল” দুটা বন্ধক রেখে আমাকে টাকাটা দেওয়া হয়েছে(ঘটনা কয়েকদিন পরে জানলাম)।আমি টাকা আনার সময় অনেক কিছুই ভাবতাম,কি করে আমাকে টাকাটা দিচ্ছে?,কার কাছে না হয় আমার জন্য হাত পেতেছে?,কোন কিছু হয় তো ক্ষয় করেছে!, এমন সব প্রশ্ন আমার মনে প্রায়ই আসতো।তাই রাস্তা দিয়ে আসতে আসতে একটা জাম তলাতে বসে বসে কাঁদতাম।বলতাম, যে টাকা নিচ্ছি তার মান-মর্যাদা রাখতে পারবো?আল্লাহ হয় তো সেবার কান পেতে শুনে ছিলো,তাই তো সম্মানের সাথে কৃতকার্য হয়ে যশোর কে বিদায় জানালাম(তবে জন্মভূমি প্রিয় যশোর কে নই)। একদিন রাতে মা আমাকে বললো,”খোকা তোর আব্বু আমার কানের দুলটা ছাড়াতে পারছে না।” আমি বললাম,কেন? বলছে,” টাকা ম্যানেজ করতে পারছে না।খোকা আমার দুলটা ছাড়ানোর একটা ব্যবস্থা কর।”
মায়ের এমন আকুতি শুনে আমার ঐ রাতে ঘুম আর হলো না।কখন সকাল হবে? এই ভাবতে ভাবতে সকালে উঠে,কলেজে কয়েকটা ক্লাস করে সোজা বৃত্তির টাকা তুলতে চলে গেলাম ব্যাংকে(কাকতালীয় ভাবে মায়ের সাথে কথা বলার পরের দিন বৃত্তির টাকা পেলাম হাতে)।টাকাটা হাতে নিয়ে সোজা “মায়ের কানের দুল” স্বর্ণকারের কাছ থেকে নিয়ে মায়ের হাতে দিলাম! মাকে কানের দুল নিজের হাতে পরিয়ে দিলাম।মা কানের দুল ফিরে পেয়ে কি যে খুশি হলো তা একমাত্র অাল্লাহ পাক-ই ভালো জানে।আমিও মনে মনে এমন খুশি হলাম যা আর পৃথিবীতে হবো না দ্বিতীয় বার?
আর বলেছিলাম, এমন করে টাকা দিলে আমি পড়া লেখা আর করবো না।😭😭
পরের ঘটনা সবই ইতিহাস।

#উপদেশ:- ভাই-বোন আপনাদের বলি টাকা খরচ করার আগে একটি বার ভেবে দেখবেন? টাকা টা কোথা থেকে আসে? 😂তারপর না হয় আরো একবার ভাববেন?টাকা টা আসলেই কোথা থেকে আসে? 😂
#বি_দ্র:- যাদের বাবা ঘুষ খোর বা অন্য প্রন্থাতে আয় করে তাদের কথা ভিন্ন!!!

তারিখ:-২৩/১১/২০১৬ইং
রোজ:-বুধবার।
#অপ্রকাশিত_ডায়েরি_থেকে

Image may contain: text
Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s